জাপানে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন চলতি বছর আট কোটি টনের নিচে নেমে যেতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির আয়রন অ্যান্ড স্টিল ফেডারেশন। মার্কিন শুল্কের ঝুঁকি ও চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদনে এ হ্রাস দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ ও রয়টার্স।
আয়রন অ্যান্ড স্টিল ফেডারেশনের দেয়া পূর্বাভাস বাস্তবায়ন হলে চলতি বছর জাপানের ইস্পাত উৎপাদন ১৯৬৮ সালের পর সর্বনিম্নে নেমে যেতে পারে। সে সময় দেশটির মোট ইস্পাত উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৬ কোটি ৭০ লাখ টন। এছাড়া গত বছর জাপান মোট ৮ কোটি ৪০ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করেছে।
সংস্থাটি জানায়, এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জাপানের তৃতীয় বৃহত্তম ইস্পাত উৎপাদনকারী কোম্পানি কোবে স্টিলের উৎপাদন ৩ শতাংশ কমেছে। এ সময় মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৪ লাখ ৬০ হাজার টনে। নিপ্পন স্টিলের উৎপাদন ৭ শতাংশ কমে ৯৪ লাখ ৬০ হাজার টন এবং জেএফই হোল্ডিংসের উৎপাদন ৩ শতাংশ কমে ৫৬ লাখ ১০ হাজার টনে নেমেছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কম দামের চাপ ও মার্কিন শুল্কের সম্ভাব্য প্রভাব এ খাতের বড় তিন প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনে প্রভাব ফেলেছে।
মার্কিন শুল্ক কমানোর জন্য জাপানের প্রধান আলোচক রিয়োসি আকাজাওয়া চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিকের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। এরই মধ্যে চীন থেকে সস্তা মূল্যে ইস্পাত সরবরাহ জাপানের বাজারে দাম কমাচ্ছে পণ্যটির। জাপানসহ অনেক দেশ ‘প্রতিরক্ষামূলক বাণিজ্য’ ব্যবস্থা বিবেচনা করছে।
জাপানের গাড়ি রফতানিও কমছে। নির্মাতারা ব্যয় কমাতে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় উৎপাদন স্থানান্তর করছে। নিপ্পন স্টিল জানিয়েছে, জনসংখ্যা হ্রাস, যুক্তরাষ্ট্রে গাড়ি রফতানি কমা এবং অন্যান্য শিল্পের পরোক্ষ রফতানি হ্রাসের কারণে জাপানে অভ্যন্তরীণভাবে ইস্পাত চাহিদায় নিম্নমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকবে।
মার্কিন শুল্কের কারণে বার্ষিক মুনাফায় নিপ্পন স্টিলের ৫ হাজার কোটি ইয়েন এবং কোবে স্টিলের ৫০০ কোটি ইয়েন ক্ষতি হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে। জেএফই উৎপাদনক্ষমতা কমাতে কয়েকটি দেশী কারখানা বন্ধের পরিকল্পনা করেছে।
এসবিআই সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক রিউনোস্কে শিবাতা বলেন, ‘বর্তমানে ইস্পাত শিল্পের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বাজার ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র। এশিয়ার অন্যান্য দেশে চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকলেও চীনের নিকটবর্তী হওয়ায় ঝুঁকি রয়েছে।’